মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব: ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়াল বিপিসি

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation)। বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে সংস্থাটির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

তবে সরবরাহ বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার একদিকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদের কথা বলছে, অন্যদিকে রেশনিং করে তেল সরবরাহের নির্দেশ দিচ্ছে—যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর ফলে অনেক এলাকায় পাম্পে দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলা এমনকি হা’\মলা’র ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তারা।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাম্প মালিকরা এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পাম্প পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, ইরান (Iran)-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel)-এর হা’\মলা’র ঘটনার পর সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় রেশনিং পদ্ধতি চালু করে সরকার। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আগে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ হারে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিপিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির পরিকল্পনা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী নিয়মিতভাবে জাহাজে করে তেলের চালান দেশে আনা হচ্ছে। আমদানিকৃত জ্বালানি তেল প্রধান স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে এবং সেখান থেকে বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা আরও জানান, নিবন্ধিত সরাসরি গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিপণন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন (Bangladesh Petrolpump Owners Association)-এর সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং পাম্প মালিকরাও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিপণন করছেন। তবুও অনেক জায়গায় পাম্পগুলোতে তারা হা’\মলা’র শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাজমুল হক বলেন, অনেক এলাকায় পাম্পগুলোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সরকার ২০২৫ সালের বিক্রির তুলনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বলা হলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বাস্তবে ঘাটতি আরও বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পাম্প মালিকরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও বিরোধিতা করেন। তাদের ভাষ্য, কোথাও কোথাও মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হলে পাম্প মালিকদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

সরকারের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরে পাম্প মালিকরা বলেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা যাবে না এবং বড় ও ছোট সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে তেল সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এজেন্সি, পিক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছেও তেল সরবরাহ চালু করার দাবি জানান তারা। পাম্প মালিকদের মতে, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সামাজিকভাবে হেয় করা বন্ধ করতে হবে। কোনো পাম্প বা নৌযানে অবৈধ মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তেল ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করাও জরুরি।