তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করেছে ইরান (Iran)। তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দফতরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি (Ebrahim Zolfaghari) বলেছেন, পরিস্থিতি বর্তমান অবস্থায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বুধবার বিবিসি (BBC)–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্বকে সতর্ক করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের প্রতিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র।
এক বিবৃতিতে ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, ‘ব্যারেল প্রতি তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন, কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল—যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার নীতি এখন শেষ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে আঘাত’। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে এক লিটার তেলও পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া তাদের অনুগত যে কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর মতো ‘কার্যত আর কিছুই বাকি নেই’ এবং তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে।
বুধবার আল জাজিরা (Al Jazeera)–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধ ‘বেশ সফলভাবে চলছে’ এবং মার্কিন বাহিনী প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়সূচির চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনার চেয়ে আমরা অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছি।’
তবে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অতীতেও বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার ঘটনা রয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি।


