যেকোনো বোলারের জন্য এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার নিঃসন্দেহে বিশেষ অর্জন। তবে দেশের মাটিতে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার পরও সেটিকে খুব বড় কিছু হিসেবে দেখছেন না নাহিদ রানা (Nahid Rana)। বরং তার কাছে এটি একটি সাধারণ অনুভূতি। তবে এমন পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন এই তরুণ পেসার। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্। সাধারণ অনুভূতি। বাট সামনে চেষ্টা করব কীভাবে এই জিনিসটা লম্বা সময় ধরে রাখা যায়।’
নিজের এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা দেখছেন দুই অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman) ও তাসকিন আহমেদ (Taskin Ahmed)-এর। ম্যাচের ১০ম ওভারে বোলিংয়ে এসে আগের ওভারগুলোতে তাদের বোলিং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘তাদের সঙ্গে মাঠে কথা বলছিলাম উইকেটে কী হচ্ছে না হচ্ছে। তারা বলল, উইকেটে হিট করলে কিংবা লাইন-লেংথ ঠিকঠাক রাখলে ব্যাটারদের জন্য খেলা কঠিন হবে। আমি শুধু ওই বিষয়টাই মাঠে এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছি।’
ম্যাচটিতে পুরো সময় একটানা বোলিং করেন নাহিদ। অর্থাৎ, সাত ওভারই করেন এক স্পেলে—যা একজন পেসারের ক্ষেত্রে খুবই বিরল দৃশ্য। এ নিয়ে নিজের ভাবনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় চিন্তা করি দল আমার কাছে কী চায়। আমি যখন উইকেট পাচ্ছিলাম, তখন আমার বোলিং তাদের জন্য সমস্যা হচ্ছিল। তাই বিষয়টা যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এজন্য হয়তো অধিনায়ক চেষ্টা করেছে আমাকে দিয়ে আরও দু-একটা ওভার করানোর।’
ম্যাচে জয় নিয়েও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই প্রত্যেকটি ম্যাচেই জয় আমাদের জন্য বিশেষ। আর যদি কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে আনন্দটা আরও বেশি হয়।’
এদিকে পাকিস্তান শিবিরেও নাহিদের বোলিং নিয়ে ছিল প্রশংসার সুর। দলের হেড কোচ মাইক হেসন (Mike Hesson) বলেন, নাহিদের স্পেলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তার মতে, ‘নাহিদ রানা ব্যতিক্রমী। সে বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। সে-ই খেলাটা পরিবর্তন করে দিয়েছে।’
নাহিদের বোলিংয়ের প্রশংসা করে হেসন আরও বলেন, ‘সে দারুণ বোলিং করেছে। প্রচণ্ড আগ্রাসী ছিল, অসাধারণ বাউন্সার করেছে এবং তার বোলিংয়ে ছিল দুর্দান্ত গতি।’
তবে দলের হারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন পাকিস্তানের এই কোচ। তিনি বলেন, ‘এটা বলা সহজ—এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাটিং পারফরম্যান্স।’ এমন পারফরম্যান্সে দল একপ্রকার উন্মোচিত হয়েছে বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
তবে এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন হেসন। তার বিশ্বাস, বাকি দুই ম্যাচে দল আরও ভালো পারফরম্যান্স করবে।


