বিরোধীদলের জন্য আহ্বান ছিল, তবু সরকারদলীয় এমপিই ডেপুটি স্পিকার—সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন বাস্তবতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এসেছে। সরকারদলীয় পক্ষ থেকে বিরোধীদলকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পদটি সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের কাছেই গেছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিরোধী দল থেকে এ পদের জন্য কোনো নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Major Retd. Hafiz Uddin Ahmed)। এরপর ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (Barrister Kaiser Kamal)।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদ সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (Khandaker Mosharraf Hossain) অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সরকার পক্ষ থেকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে এই পদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও তারা তা গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি।

বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। তবে তারা খণ্ডিতভাবে কোনো পদ গ্রহণ করতে চান না।

তার ভাষায়, “আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাই না, আমরা চাই প্যাকেজ। আমরা চাই পুরো বিষয়টি—যা জুলাই সনদে উল্লেখ আছে—সেটি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হোক। তখনই আমরা আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারব।”

সরকার জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ কারণেই আপাতত ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের দল।

ফলে বিরোধীদল থেকে কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ডেপুটি স্পিকার পদটিও সরকারদলীয় সদস্যের হাতেই গেছে।