গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের মণিহার এলাকায় একটি পরিবহণে অভিযান চালিয়ে উচ্চমাত্রার নে’\শা’\জা’\তীয় দ্রব্য ক্রি’\স্টা’\ল আই’\স তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বস্তার ভেতরে ছিল এফিড্রিন বা সিউডোএফিড্রিন এবং পিউরিফাইড অ্যাসিড (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড), যা এই মারাত্মক নে’\শা’\জা’\তীয় পদার্থ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
পুলিশ জানায়, এসব দ্রব্য বহন করছিলেন শাপলা খাতুন স্বপ্না (২৮) নামে এক নারী। প্রথমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে তিনি ক্রি’\স্টা’\ল আই’\স তৈরির কাঁচামাল চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাকে দেওয়া হতো প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন।
শাপলা খাতুন স্বপ্না সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের আক্তারুজ্জামানের মেয়ে।
ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে (Alok Kumar De) জানান, ওই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ঈগল পরিবহণের একটি বাসে সন্দেহজনক দ্রব্য বহন করা হচ্ছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি দল নিয়ে যশোর (Jashore) শহরের মণিহার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পরিবহণটির বক্স তল্লাশি করে একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তার ভেতরে তিনটি প্যাকেট ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় ওই দ্রব্য বহনকারী শাপলা খাতুন স্বপ্নাকে।
প্রথমে প্যাকেটগুলোর ভেতরে কী রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও শুরুতে তিনি কোনো তথ্য দেননি। পরে বস্তাসহ তাকে সেদিন রাতেই ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসআই অলোক কুমার দে বলেন, তিনটি বড় প্যাকেট খুলে তার মধ্যে আরও ছোট ছোট মোট ২৫টি প্যাকেট পাওয়া যায়। ওই নারীর কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ প্রথমে সেগুলো ল্যাব টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাতের জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে স্বপ্না স্বীকার করেন, এগুলো ক্রি’\স্টা’\ল আই’\স তৈরির কাঁচামাল।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্যাকেটগুলোর মধ্যে প্রায় ২৫ কেজি এফিড্রিন বা সিউডোএফিড্রিন এবং ছয় লিটার পিউরিফাইড অ্যাসিড (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) ছিল।
পুলিশকে স্বপ্না আরও জানান, আজমল হোসেন লাল্টু নামে এক ব্যক্তি তাকে এসব মালামাল চট্টগ্রাম (Chattogram) শহরের অলংকার মোড়ে পৌঁছে দিতে বলেন। কাজটি সম্পন্ন করলে তাকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
স্বপ্নার ভাষ্য অনুযায়ী, আজমল হোসেন লাল্টুর বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়। মোবাইল ফোনের প্রলোভনেই তিনি এসব নে’\শা’\জা’\তীয় দ্রব্য তৈরির কাঁচামাল বহনে রাজি হন।
ডিবি পুলিশ ধারণা করছে, চট্টগ্রাম (Chattogram) এলাকার একটি কারখানায় ক্রি’\স্টা’\ল আই’\স নামের উচ্চমাত্রার নে’\শা’\জা’\তীয় পণ্য তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এসআই অলোক কুমার দে আরও জানান, এ ঘটনায় শাপলা খাতুন স্বপ্না ও আজমল হোসেন লাল্টুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানা (Kotwali Police Station) এলাকায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর অভিযুক্ত আজমল হোসেন লাল্টুকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


