ভারতে আটক ৭ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত পাঠানো হলো

ভারতে আটক থাকা সাতজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনিবার (১৪ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (Haridaspur Immigration Checkpost) দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট (Benapole Checkpost) ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন (Bureau of Immigration) সূত্রে জানা গেছে, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কাউন্সিলর ২৩ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা ট্রাভেল পারমিট এবং এফআরআরও কলকাতার ২ মার্চ জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’-এর ভিত্তিতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হরিদাসপুর আইসিপি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন (Sakhawat Hossain) জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা (Benapole Port Police Station)-এর ওসি আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ছয়জনকে এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি একজনকে গ্রহণ করেছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, দালাল ও অনলাইন প্রতারকদের প্রলোভনে পড়ে তারা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বিদেশে যাওয়ার আশায়। পরে ভারতের কলকাতায় ঘোরাফেরার সময় পুলিশ তাদের আটক করে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দমদম কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপে ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সাজাভোগের পর তাদের কলকাতার একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরে দেশে ফেরার অনুমতি পেলে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকরা হলেন—বরিশালের হিজলা উপজেলার আবদা গ্রামের আলতাব হোসেন মাঝির মেয়ে জেসমিন আক্তার, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের শাহআলমের ছেলে আরমান হোসাইন, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার রামগোবিন্দ হিসাবিয়া গ্রামের মৃত নুর আলীর মেয়ে রুপা ইসলাম (ওরফে নেহা), গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার কোনেরবিটা গ্রামের চিন্ময় বড়াইয়ের ছেলে জিতেন্দ্র বড়াই (ওরফে যতির্ময় বড়াই), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের নবিসউদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লা আলী, বরিশাল কোতয়ালি এলাকার বঙ্কিম চন্দ্র হালদারের ছেলে রাজু হালদার (ওরফে সৌরভ হালদার) এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলার পাচাকোরালিয়া গ্রামের ফারিকুল ইসলামের ছেলে আবু তাহের।