ইসলামোফোবিয়া নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস

‘ইসলামোফোবিয়া’ নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি জোরালো বার্তা দিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres)। জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গুতেরেস তার বক্তব্যে স্মরণ করেন ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ড (New Zealand)-এর আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার কথা। ওই ঘটনায় ৫১ জন নি’\হত এবং ৪০ জন আহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

বিশ্বব্যাপী ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, প্রায় দুই বিলিয়ন মুসলমান নানা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, সামাজিক বাধা এবং বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা পক্ষপাতদুষ্ট অভিবাসন নীতি, অযৌক্তিক নজরদারি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুসলিমবিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্য শুধু সামাজিক বিভাজনই বাড়াচ্ছে না, বরং তা ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।

এই প্রবণতা রোধে প্রতিটি দেশের সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বাস্তবায়নে দৃঢ় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একইসঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে কাউকে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালানো ঠেকাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় হতে হবে।

গুতেরেস আরও বলেন, ধর্মান্ধতা, বিদেশবিদ্বেষ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান—ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিতে।

তার ভাষায়, “এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—প্রতিটি দেশ ও সম্প্রদায় থেকে ইসলামোফোবিয়ার অভিশাপ দূর করব এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমতা, মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করব।”