আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
সোমবার (১৬ মার্চ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)) ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সংস্থাটির সদরদপ্তরে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট বার্তা আসে—ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় সামরিকভাবে জড়াতে আগ্রহী নয় ইউরোপ।
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস সাংবাদিকদের বলেন, “এই উন্মুক্ত যু’\দ্ধ নিয়ে ইউরোপের কোনো আগ্রহ নেই এবং ইইউ’র কোনো সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় না।”
তার এই অবস্থানের প্রতিধ্বনি শোনা যায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির বক্তব্যেও। তিনি জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় নৌবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও জলদস্যুবিরোধী অভিযান পরিচালনায় ব্যস্ত রয়েছে।
তার ভাষায়, “এই দায়িত্ব ছেড়ে এখনই হরমুজ প্রণালিতে নতুন মিশন চালানো সম্ভব নয়। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকত, তাহলে আমরা অবশ্যই বিবেচনা করতাম।”
রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে ইউরোপ
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মের্ৎসও একই সুরে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “আমরা হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে চাই না। আমরা চাই এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান হোক।”
ইউরোপীয় নেতাদের এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর বদলে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজতে আগ্রহী তারা।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি এক ধরনের ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। এই পথ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বে তেল সরবরাহ কার্যত কঠিন হয়ে পড়বে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
ব্রিটেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে অন্তত ১২টির বেশি ট্যাংকার জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ১৫ মার্চ ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—তারা এই মুহূর্তে সামরিক পথে নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানেই বেশি আস্থা রাখছে।


