সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন (Shushashoner Jonno Nagorik)-এর প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার (Badiul Alam Majumdar) বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিরা গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার কথাই বলেছিলেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল (Motijheel) এলাকায় কামাল হোসেন (Kamal Hossain)-এর চেম্বারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিষয়টি এখন দেখার। তবে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, তারা স্পষ্টভাবে গণভোটের রায় মানার কথাই জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি জনগণের রায়কে সম্মান জানানো হবে। প্রয়োজনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তকে সমুন্নত রাখবে।”
গণভোটে জনগণের সামনে উপস্থাপিত ৪৮টি বিষয়ে মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই সেই রায় মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে—এটাই প্রত্যাশা।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ এখনো গঠন না হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিষয়টি সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “আমরা অপেক্ষা করতে পারি। আশা করি রাজনীতিবিদরা অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন এবং আগের ভুলগুলো আর পুনরাবৃত্তি করবেন না। তারা প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সংসদে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেও বিষয়টি নির্ধারিত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ইতিমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে—এমনটাই তিনি আশা করেন। “গণভোটে যেটা পাস হয়েছে সেটাই শেষ কথা”—বলেন তিনি।
বদিউল আলম মজুমদার আরও ব্যাখ্যা করেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
তার মতে, প্রথম বিষয় হলো পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত মামলার রায় এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো—জুলাই সনদ, যেখানে ৪৮টি বিষয় গণভোটে পাস হয়েছে। এই দুই প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া এবং আইনজীবী কারিশমা জাহান।
