বিদায়ের প্রহরে মাহে রমজান: শেষ সময়ে কী করবেন?

পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদত-বন্দেগির এই বরকতময় মাসটি শেষ করার সর্বোত্তম উপায় হলো মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারণ ইস্তিগফারের মাধ্যমে যেকোনো ভালো কাজের সমাপ্তি মানবজীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে একজন মুসলমানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। এগুলো শুধু ইবাদতের পূর্ণতা আনে না, বরং পুরো মাসের সাধনাকে অর্থবহ করে তোলে।

বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা

নামাজ শেষ করার পর আমরা যেমন তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি কিংবা হজ সম্পন্ন করার পর তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে সমাপ্তি টানি, ঠিক তেমনি রমজানও শেষ করা উচিত ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। কারণ মানুষ হিসেবে আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যেতে পারে।

রোজা রেখে আমরা হয়তো কোনো সময় রাগ করেছি, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখেছি কিংবা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি। এই ছোট ছোট ভুলত্রুটি থেকে মুক্তির জন্য রমজানের শেষ মুহূর্তগুলোতে মহান আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা এবং ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সদকাতুল ফিতর আদায়

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সদকাতুল ফিতর এক ধরনের ইস্তিগফারেরই রূপ। যেমন নামাজে কোনো ভুল হলে ‘সাহু সেজদা’র মাধ্যমে তা পূর্ণতা দেওয়া হয়, তেমনি রোজার সময় হওয়া ভুলত্রুটি দূর করার জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ফিতরা আমাদের অনর্থক কথা, ভুল আচরণ বা ছোটখাটো গুনাহ থেকে পবিত্র হতে সহায়তা করে। তাই ইস্তিগফারের পাশাপাশি সময়মতো সদকাতুল ফিতর আদায় নিশ্চিত করা উচিত।

সময়ের সঠিক মূল্যায়ন

রমজানের প্রথম দিনের কথা একটু ভেবে দেখুন। মনে হয় না যেন সেদিনই তো শুরু হয়েছিল? অথচ চোখের পলকেই ৩০টি দিন পার হয়ে গেল। সময়ের এই দ্রুতগতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনও একইভাবে ক্ষণস্থায়ী।

রমজান শেষ হচ্ছে, এটা আমরা জানি। কিন্তু আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই রমজানের এই শিক্ষা থেকে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত—সময়ের মূল্য অনেক বেশি। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সঙ্গে স্থায়ী ও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু ইবাদত করাই বড় কথা নয়; বরং সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেকেই আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত—‘হে আল্লাহ! আমাদের রোজা কবুল করো, আমাদের দান-সদকা কবুল করো।’