দলীয় ভিসি নিয়োগে সমালোচনা স্বাভাবিক: ‘ফেরেশতা এনে বসানো যাবে না’—মির্জা ফখরুল

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সরকারের ক্ষেত্রে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিয়োগ হওয়া অস্বাভাবিক নয়, এবং এ নিয়ে সমালোচনা থাকাটাও স্বাভাবিক।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা তো থাকবেই। এখন পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট তার নিজস্ব পলিটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগগুলো হবে…. এটা তো এমন না যে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ফেরেশতা নিয়ে আনা হবে।’

দলীয় লোকজনকে ভিসি পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘দ্য বেস্ট পসিবল যাদেরকে মনে হয়েছে, তাদেরই দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দলীয় সরকার, কিছুটা দলীয় লোক তো থাকবেই… এটাকে নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। আমরা বলছি না সমালোচনা হবে না। তবে এ নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন নই।’

তিনি দাবি করেন, এসব নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে যোগ্য। ‘আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড খুব খারাপ নয়, বরং ভালোই। যারা ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা পরীক্ষিত এবং যোগ্য—কোনো দিক থেকেই আমি অসুবিধা দেখি না,’ বলেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও চলতি বছরের মধ্যেই দলটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

তার ভাষায়, ‘বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই। তবে এখনো সময় নির্ধারণ হয়নি। আমার মনে হয় খুব শিগগিরই হবে।’

উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের কার্যক্রম অনেকটা এক হয়ে গেছে—এই অবস্থায় দলের কার্যক্রম কবে পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।

জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের কার্যক্রম ইতোমধ্যে ছোট পরিসরে চলমান রয়েছে। ‘সরকার গঠন করতে এক মাস সময় লেগেছে। দলের অনেকেই এখন সরকারে দায়িত্বে আছেন। ফলে শূন্যস্থান পূরণে কিছুটা সময় লাগবে। এটা বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কিছু নেই—সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে,’—এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।