ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে গভীর সংকট তৈরি করতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (International Energy Agency)। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল (Fatih Birol) বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত আইইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোকে এখনই সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সংকট মোকাবিলায় মহাসড়কে গতিসীমা কমানো, বাসা থেকে কাজের সুযোগ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) বাড়ানো এবং শিল্প ও গৃহস্থালিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি (BBC)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরোল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকট এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার হা’\মলার পর তৈরি হওয়া গ্যাস সংকটের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তার মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান (Iran), যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel)-এর সংঘাত, জ্বালানি স্থাপনায় হা’\মলা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


