ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ক্রমেই আন্তর্জাতিক পরিসরে চাপের মুখে পড়ছে। একের পর এক দেশ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সুইজারল্যান্ড (Switzerland), যারা যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানির জন্য নতুন লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বিবৃতিতে সুইস সরকার জানায়, ইরানের সঙ্গে চলমান আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এ যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানির জন্য কোনো নতুন লাইসেন্স দেওয়া হবে না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত তিন সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
এর আগে সুইজারল্যান্ড ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক ফ্লাইটের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। গত সপ্তাহে ইরান-সংক্রান্ত দুটি মার্কিন ফ্লাইওভার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হলেও নিরপেক্ষতা আইন মেনে অন্য তিনটি ফ্লাইটকে অনুমতি দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে প্রণীত একটি সুইস ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতার নীতির ভিত্তিতে যুদ্ধাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির আমদানি-রপ্তানির জন্য বিশেষ লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। সেই আইনের আওতায়ই বর্তমান এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো নতুন রপ্তানি লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। এমনকি ইসরাইল (Israel) বা ইরান (Iran)—কোনো দেশের জন্যই গত কয়েক বছরে যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিদ্যমান লাইসেন্সগুলো এখন বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়মিত পর্যালোচনা করবে। তারা নিরপেক্ষতা আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি যাচাই করবে। একই সঙ্গে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য এবং নির্দিষ্ট সামরিক পণ্য রপ্তানির বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সুইস অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১১৯ মিলিয়ন ডলার। এর আগেও ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সুইস সরঞ্জাম পাঠাতে বাধা দিয়েছিল দেশটি।
এছাড়া ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময়ও সুইজারল্যান্ড তাদের আকাশসীমা ব্যবহার ও অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তও সেই নিরপেক্ষ অবস্থানের ধারাবাহিকতা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


