ট্রাম্পের নরম বার্তায় তেলের দামে পতন, স্বস্তির আভাস বিশ্ববাজারে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎই নতুন মোড় নিয়েছে বিশ্ববাজার। যুদ্ধের গর্জনের মাঝেই এবার আলোচনার সম্ভাবনায় আশার সঞ্চার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর একটি ইতিবাচক বার্তার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর বিবিসির (BBC)।

সোমবার (২৩ মার্চ) এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। তবে ট্রাম্প ‘গঠনমূলক আলোচনা’র ইঙ্গিত দেওয়ার পরপরই তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারেও—টানা দরপতনের ধারায় ছেদ পড়ে এবং সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। পাল্টা হিসেবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেয়।

তবে সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social)-এ ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ একটি “সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক” সমাধানের পথে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান এই আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে, যা পরিস্থিতিকে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখছে।

শনি ও রবিবার জুড়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা সোমবার কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান আপাতত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। তবে তেহরানের অস্বীকৃতির কারণে এই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর।