কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে নি’\হত ও আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গেটম্যান মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (Rapid Action Battalion)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দায়িত্বে চরম অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৫ মার্চ) এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান র্যাব-১১ (RAB-11)-এর উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার মো. নাঈম উল হক।
গ্রেপ্তার হেলাল কুমিল্লার বুড়িচং থানার কালকাপুর ডাকঘরের কোদালিয়া গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে অবস্থিত ই/৪৭ নম্বর রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার সময় রাত ৩টা ১০ মিনিটে হেলালের ডিউটি থাকার কথা থাকলেও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কাউকে কিছু না জানিয়ে কিংবা বিকল্প কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তার এই অবহেলার কারণেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর হেলাল নিজেই তার অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে র্যাব। এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার আসামিকে লাকসাম রেলওয়ে থানা (Laksam Railway Police Station)-এ হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
গত শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ (Dhaka–Chattogram Railway Line)-এর কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিংয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি মেইল ট্রেন রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ১২ জন নি’\হত হন, আহত হন অন্তত ২৫ জন।


