ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা—আলোচনায় না এলে ‘অভূতপূর্ব সামরিক আঘাত’

ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস (White House) থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে এক নজিরবিহীন কড়া হুঁশিয়ারি। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও, আলোচনার পথ প্রত্যাখ্যান করলে ইরানকে এমন সামরিক আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে—যা তাদের জন্য হবে অভূতপূর্ব।

বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ সবসময়ই শান্তি। তিনি আর কোনো রক্তপাত বা ধ্বংসযজ্ঞ চান না। তবে সেই শান্তির পথ তখনই উন্মুক্ত হবে, যখন ইরান বর্তমান বাস্তবতা মেনে নেবে।

লেভিটের বক্তব্য ছিল সরাসরি ও কঠোর। তিনি বলেন, ইরানকে বুঝতে হবে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং এই পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে। যদি তারা এই বাস্তবতা অস্বীকার করে আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন—তাদের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক আঘাত হানা হবে।

এই বার্তা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল (Israel) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের মতে, এসব হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান (Pakistan)-এর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ, এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা।

যদিও ইরান প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের কিছু অংশ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবুও নেপথ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রেস সেক্রেটারি লেভিট আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য কোনো ফাঁকা হুমকি নয়। তিনি ইরানকে নতুন করে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন।

তবে বুধবারের এই বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে—তেহরান যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে সেই স্থগিতাদেশ যেকোনো সময় প্রত্যাহার করা হতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।