আয়নাঘরের হোতা হিসেবে আলোচিত এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই – Directorate General of Forces Intelligence)-এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ (Sheikh Mamun Khaled)-কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ (Detective Branch)।
বুধবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম (Shafiqul Islam)।
ডিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। বর্তমানে মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের আমলে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, কথিত ‘জঙ্গি নাটক’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ।
তিনি ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত একটি গোপন ব্যবস্থার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ভাঙিয়ে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শতাধিক সেনা কর্মকর্তাকে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে চাকরিচ্যুত ও কারাবন্দি করার পেছনেও তার ভূমিকা ছিল। ২০১২ সালে মেজর জিয়াকে গু’\ম করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনাতেও তাকে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায় দেড় বছর আগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অবৈধ শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের মে মাসে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারির বিডিআর বি’\দ্রো’\হের সময়সহ বিভিন্ন ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তার চলমান তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং এর মাধ্যমে অতীতের নানা বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
