দৌলতদিয়া বাসডুবি: রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও সিন্ডিকেটের শিকল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ডা. মাহমুদা মিতুর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু বলছেন, দৌলতদিয়ায় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা কখনোই শুধু দুর্ঘটনা নয়। তিনি জানিয়েছেন, এর পেছনে থাকে ‘রাষ্ট্রজুড়ে গড়ে ওঠা অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শেকড়’। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি দুর্ঘটনায় নিহতদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘটনাকেও কড়া সমালোচনা করেছেন।

ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, প্রিয়তমা স্ত্রীর মেহেদী রঙা হাত, প্রিয় সন্তানের ছোট ছোট আদুরে হাত—এই ২৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে, এদের প্রত্যেকের “দাম” মাত্র ২৫ হাজার। স্বাধীনতা দিবসে তারা পেয়েছে সত্যিকারের মুক্তি, তবে তা এসেছে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও আধিপত্যবাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো নিয়ম ভাঙার অনুমতি, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং দায়হীনতার সংস্কৃতি। যেখানে তদারকি থাকা উচিত, সেখানে সমঝোতা; যেখানে জবাবদিহি প্রয়োজন, সেখানে নীরবতা। প্রতিটি অবহেলা জমে জমে এক সময় লাশের মিছিলের রূপ নেয়।

ডা. মাহমুদা আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়ে দেশ স্বাধীন করে গেল, জুলাই যোদ্ধারা প্রাণ দিল, কিন্তু সাধারণ মানুষ মুক্তি পেল না। দিনের পর দিন আমরা অপ্রয়োজনীয় তর্কে ব্যস্ত থাকি; শেষ পর্যন্ত আমাদের লাশ ২৫ হাজারে বিক্রি হয়। তারপরই হয় মুক্তি।’ তিনি সকলকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।