চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা মোট ৩০৫ কোটি (৩.০৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৭১ লাখ ডলারের সমান। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ২১০ কোটি টাকা।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)-এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এবছর উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি যোগাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাসভিত্তিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে শক্তিশালী প্রবণতা। ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। জানুয়ারিতে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এর আগে ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার—যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ মাসিক আয়। এছাড়া নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।
অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাহ ছিল স্থিতিশীল। আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে, যা বছরের শুরু থেকেই একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা এক অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


