মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষে’\পণাস্ত্র হামলার মুখে এক গভীর সংকটে পড়েছে ইসরায়েলের চিকিৎসা ব্যবস্থা। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির হাসপাতালগুলো এখন জরুরি ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ শেল্টার ও সুরক্ষিত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু সরকারি বাজেট সংকোচনের কারণে তারা বাধ্য হচ্ছে ব্যক্তিগত ও আন্তর্জাতিক অনুদানের ওপর নির্ভর করতে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল (The Times of Israel)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের ফলে হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারছে না। ফলে অনেক চিকিৎসাকেন্দ্রকে স্টোরেজ রুম ও পার্কিং লটকে অস্থায়ী ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারে রূপান্তর করতে হচ্ছে—যা একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে অপ্রতুল।
হাদেরার হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক মিকি দুডকিউইচ জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই তারা রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রমাগত ক্ষে’\পণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের স্টেট কম্পট্রোলার মাতানিয়াহু এঙ্গলম্যানের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ হাসপাতালের শয্যা এবং ৪১ শতাংশ অপারেশন থিয়েটার আদর্শ সুরক্ষা সুবিধাবিহীন। বিশেষ করে মানসিক হাসপাতাল ও জেরিয়াট্রিক সেন্টারগুলোর অবস্থা আরও নাজুক—যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ শয্যা সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
গত জুন মাসে বিয়ারশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে ইরানি ক্ষে’\পণাস্ত্র আঘাতে ৮০ জন আহত হওয়া এবং আটটি অপারেশন থিয়েটার ধ্বংস হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে নিয়ে আসে। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালগুলোতে সুরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
এঙ্গলম্যানের হিসাব বলছে, সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে সুরক্ষিত করতে প্রয়োজন প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেকেল। অথচ সরকার উল্টো স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে ৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেকেল কমিয়েছে—যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে হাইফার রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাসের মতো কিছু বড় হাসপাতাল তাদের ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটকে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে, যেখানে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রায় ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থের অভাবে তাদের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারছে না।
৪৫০ মিলিয়ন শেকেল ব্যয়ের একটি প্রকল্পে সরকার মাত্র ১০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন বেসরকারি দাতাদের দিকে ঝুঁকছে। জেরুজালেমের শ্যারে জেদেক মেডিকেল সেন্টারও তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা সিস্টেম ভূগর্ভে স্থানান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহ করছে।
ভলফসন মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর ড. ইউভাল দাদোন বলেছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন ব্যাপক ক্ষে’\পণাস্ত্র হামলার পরিস্থিতি আগে কেউ কল্পনাও করেনি। হাসপাতালগুলো সাধারণত মাটির নিচে পরিচালনার জন্য প্রস্তুত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবুও জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সৃজনশীল সমাধানের পথে হাঁটছে—স্টোরেজ স্পেসকে আধুনিক চিকিৎসা ইউনিটে রূপান্তর করা, সীমিত সম্পদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং বিশ্বব্যাপী সহায়তা খোঁজা। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক অনুদান ইতোমধ্যে এসেছে, তবুও পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তা এখনো অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


