আ’\বু সাঈ’\দ হ’\ত্যা মামলায় নতুন প্রশ্ন: ঘটনাস্থলে থেকেও কেন আসামি নন পুলিশ কর্মকর্তা?

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Begum Rokeya University)-এর মূল ফটকের বাইরে প্রকাশ্যে গু’\লি করে হ’\ত্যা করা হয় আ’\বু সাঈ’\দকে। সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘিরে, যা এসেছে চ্যানেল 24 (Channel 24)-এর হাতে।

ফুটেজে দেখা যায়, সাদা হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে ছোটাছুটি করছেন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) আল ইমরান হোসেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, আ’\বু সাঈ’\দ হ’\ত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। এমনকি মামলায় তাকে সাক্ষী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও তার উপস্থিতি এখন বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ঢাকার সিএমএম কোর্টে ২০২৫ সালের ৩ জুন দেওয়া এক জবানবন্দিতে ইমরান হোসেন নিজেই ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে সেই জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, মোবাইল ফোন লোকেশন এবং মেটাডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গু’\লি চালানোর সময় ঘটনাস্থলের বিপরীত পাশে অবস্থান করছিলেন তিনি।

আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা (Tanvir Joha) জানিয়েছেন, সব ধরনের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ইমরানের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা (Tanvir Hasan Joha) বলেন, টেলিফোনের জিপিএস লোকেশন অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। ভিডিওতেও দেখা গেছে, তিনি হেলমেট পরে লাঠি হাতে উপস্থিত ছিলেন এবং নির্দেশদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছিলেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি এমন হয়, তাহলে তাকে সাক্ষী করা হলো কেন? আদৌ তিনি কি আসামি হওয়ার যোগ্য নন? তার ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় এখন পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করায় অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আরমান হোসেন নামের এক সাক্ষী। তিনি জানান, তার সাক্ষ্য প্রসিকিউশনের প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এমনকি তার সহযোদ্ধা শাকিলের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীরই সাক্ষ্য নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার আরেকটি দিক সামনে আসে একটি গোপন অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে, যা এসেছে চ্যানেল 24 (Channel 24)-এর হাতে। এতে প্রসিকিউশনের অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি যাচাই-বাছাই করছে। মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এই পর্যায়ে এসে তারা নতুন করে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, তদন্তে যদি মনে হয় কাউকে সাক্ষী না করে আসামি করা উচিত ছিল, তাহলে সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আগামী ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার কথা রয়েছে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আ’\বু সাঈ’\দ হ’\ত্যা মামলায়। এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ মোট ৩০ জন আসামি থাকলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৬ জন। বিচার প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নতুন এসব তথ্য ও প্রশ্ন মামলার গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।