আলোচনার আড়ালে যুদ্ধের ছায়া: ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরানের ওপর এক ভয়াবহ ‘চূড়ান্ত হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনই এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আলোচনার পাশাপাশি সমান্তরালে এই সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কেবল আকাশপথে বড় আকারের হামলাই নয়, বরং প্রথমবারের মতো ইরানে উল্লেখযোগ্য স্থলবাহিনী মোতায়েনের কথাও বিবেচনা করছে। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতেই এই দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে হোয়াইট হাউস (White House)।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে খার্ক, লারাক এবং আবু মুসা দ্বীপ—যেগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর পূর্বাংশে ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অনেকে এখনো এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে ‘চরম’ বা ‘কাল্পনিক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো বিকল্পই একেবারে বাতিল করে দেননি।

অন্যদিকে, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel)-এর যৌথ বিমান হামলায় ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই হামলায় প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃ’\ত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃ’\ত্যুর দাবিও উঠে এসেছে।

এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত এক ডজন দেশে এসব হামলার প্রভাব পড়েছে।

চার সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে শুধু প্রাণহানিই নয়, পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিমান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক (Turkey), পাকিস্তান ও মিশর মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি টেকসই সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যু’\দ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এখন পুরো বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে—যা নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কি আলোচনার মাধ্যমে থামবে, নাকি এক ভয়াবহ ধ্বং’\সলীলায় রূপ নেবে।