মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন দিয়ে ৭০ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)। তাদের দাবি অনুযায়ী, শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (Boeing E-3 Sentry) বিমানটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের নজরদারি বিমানটি ধ্বংস হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
রোববার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন বাহিনীর ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবেই তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে। এই অভিযানে এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS) হিসেবে পরিচিত ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়, যেখানে শুধু ওই নজরদারি বিমানই নয়, আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটির টিঙ্কার এয়ার ফোর্স বেস থেকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল।
আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটি ইরানের সম্ভাব্য বিমান হামলা এড়ানোর চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন সেটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। বিশেষভাবে বিমানের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ—লেজের কাছেই আঘাত করা হয়, যেখানে উন্নতমানের এএন/এপিওয়াই-২ রাডার সিস্টেম স্থাপন করা থাকে।
এই দাবি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে যদি সত্য হয়, তাহলে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়ে উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদ ধ্বংসের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি


