জাতীয় খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক এক লাখ টাকার ক্রীড়া কার্ড চালু, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন

প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য সরকার চালু করেছে ক্রীড়া কার্ড ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) আজ এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে জাতীয় খেলোয়াড়রা প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। নির্বাচনি ইশতেহারে খেলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খেলোয়াড়রা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উৎসাহ যোগ করবে বলে মনে করছেন।

নারী দলের ফুটবলার সাবিনা খাতুন বলেন, “সব ক্রীড়াবিদের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়রা এমন সাপোর্ট পাচ্ছেন। এতে আমাদের ভেতরে আলাদা উৎসাহ কাজ করবে এবং কাজের আগ্রহ বাড়বে।”

এশিয়া কাপে স্বর্ণপদকজয়ী আর্চার হিমু বাছাড় বলেন, “ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে খেলায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই খেলায় আসবে। এটি দারুণ এক উদ্যোগ।”

টেবিল টেনিসের তারকা খই খই মারমা বলেন, “আসলে ভাবতে পারিনি মাসে এত বেতন পাব। এটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুশির ব্যাপার। তিন-চার মাস পর যেহু পরিবর্তন হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে এবং আমরা আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।”

প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চলাফেরা ও অনেক কিছুতে খরচ বেশি। আমাদের খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। সরকার ভাতা দিচ্ছে এজন্য অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”

পদকজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। আমরা এখন খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারব এবং আগে যেসব পিছুটান ছিল তা আর থাকবে না।”

ব্যাডমিন্টন তারকা আল আমিন জুমার বলেন, “আমাদের আর সিজনের দিকে চিন্তা করতে হবে না। এত বড় সম্মাননা পেয়েছি। আমাদের জুনিয়র খেলোয়াড়রাও এখন আরও আগ্রহী হবে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য।” অন্যান্য ইভেন্টের খেলোয়াড়রাও মাসিক বেতন কাঠামোর আওতায় আসায় উজ্জীবিত ও উৎসাহিত।