করের হার বাড়ছে না, জোর বাড়ছে করজালে: বাজেট ঘিরে এনবিআরের নতুন কৌশল

আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে করনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে বরং করের আওতা বিস্তারের কৌশল নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন করদাতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাই এখন স্পষ্ট করে জানাচ্ছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাজেট-সংক্রান্ত এক আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue – NBR) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করের হার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তার ভাষায়, “দেশ পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ রাজস্ব প্রয়োজন, তার কাছাকাছিও আমরা পৌঁছাতে পারছি না।”

এই রাজস্ব ঘাটতির পেছনে তিনি ‘করছাড় সংস্কৃতি’-কেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়ার ফলে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে মনে করছেন তিনি। সেই অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার প্রয়াস চলছে বলেও জানান তিনি।

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে। কর ফাঁকিবাজদের শনাক্ত করার এই প্রক্রিয়া রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমান কর কাঠামোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা এখন ১ কোটি ২৮ লাখ। অন্যদিকে বিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এর মধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার করদাতা রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

আসন্ন বাজেটে কিছু খাতে স্বস্তির ইঙ্গিতও মিলছে। বিশেষ করে সংবাদপত্র শিল্পে করপোরেট কর কমানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান জানান, সংবাদপত্র মালিকরা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হ্রাসের জন্য এনবিআরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে, করহার না বাড়িয়ে করজাল বিস্তারের এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।