জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি জোটের শরিক আন্দালিব রহমান পার্থ। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একদিকে তরুণদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সতর্ক করেছেন, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ (Andalib Rahman Partha) বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করা তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আপনারা জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। দয়া করে ‘জামায়াত জেনারেশন’ হয়ে যাইয়েন না।”
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, যারা দীর্ঘদিন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছে, তারাই এখন ভারতের সঙ্গে বৈঠক করছে। আবার ইসলামের নামে রাজনীতি করে ভোটের সময় এসে বলছে—তারা শরিয়া আইন চায় না। এই ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি ইতিবাচক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবিধান বাতিলের যে আলোচনা সামনে এসেছে, সেটিরও তীব্র বিরোধিতা করেন পার্থ। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা জুলাই নিয়ে নয়, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে।” তার মতে, যদি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হয়, তবে একটি বিপ্লবী বা ট্রানজিশনাল সরকার গঠন করা প্রয়োজন ছিল। একটি সাধারণ সরকারের অধীনে পুরোনো সংবিধান বহাল রেখে সেটি বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাতিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং প্রয়োজন হলে সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। “সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এতে এত গাত্রদাহ কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয়, এটা ৭১–এর পরাজয়ের দলিল?”—এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি বিতর্কের গভীরতা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের আরেক অংশে ভিন্নমত দমনের প্রবণতার সমালোচনা করেন পার্থ। তিনি বলেন, কেউ যৌক্তিক মতামত দিলে তাকে ‘জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি। এই প্রসঙ্গে তিনি আগের সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ক্রিকেটীয় উপমা ব্যবহার করেন। তার ভাষায়, “আপনারা ছয় বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগে ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি।” তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ (Abu Sayeed)-এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামের মতো শহী’\দদের অবদানও স্মরণ রাখা জরুরি—কোনো পক্ষের অবদানই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। চারটি বিষয় একসঙ্গে উপস্থাপন করায় ভোটারদের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। “কেউ যদি একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে, তাহলে সে কীভাবে ভোট দেবে?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি গণভোটের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকটি সামনে আনেন।
বক্তব্যের শেষাংশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান পার্থ। তিনি বলেন, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই সবাইকে আলোচনায় বসতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কোনো বক্তব্য যেন জুলাইয়ের গুরুত্বকে খাটো না করে। “আসুন, আমরা ইতিবাচক কিছু নিয়ে এগিয়ে যাই”—এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ করেন তার বক্তব্য।
