এক-এগারোর নির্যাতন নিয়ে নতুন দাবি: সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মঈন ইউ আহমেদের নাম

এক-এগারোর পটভূমি এবং সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য। রিমান্ডে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনাসহ তখনকার গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ (Moeen U Ahmed)-এর নির্দেশে হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে থাকা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছের এ দাবি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও আফজাল নাছের ছয় দিনের রিমান্ডে রয়েছেন, আর শেখ মামুন খালেদকে নতুন করে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা জানান, এক-এগারো পরবর্তী পুরো সময়জুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তদারকি করতেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, আর বিএনপির অংশ দেখতেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফজলুল বারী। তবে কিছুদিন পর থেকেই এটিএম আমিন এককভাবে সমন্বয়ের দায়িত্ব নেন এবং ফজলুল বারীর ভূমিকা কমে যায়।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটিএম আমিনের নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করতেন শেখ মামুন খালেদ এবং তার অধীনে ছিলেন আফজাল নাছের। অভিযোগ রয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-কে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়ার পেছনেও আফজাল নাছের ভূমিকা রেখেছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদ সূত্র আরও জানায়, তৎকালীন মেজর সুলতানুজ্জামান সালেহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাকে ডিজিএফআইতে সংযুক্ত করে ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং তিনি সারা দেশে অপারেশন সমন্বয় করতেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদ (Fakhruddin Ahmed)-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের আগেই দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সেই সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতেও সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হ’\ত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদকে পুনরায় ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

গত ২৫ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে তিনি ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক ছিলেন এবং পরবর্তীতে সংস্থাটির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।