হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি এমআর টিকাদান শুরু, অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতার নির্দেশ

দেশে বাড়তে থাকা হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (Sardar Md. Sakhawat Hossain)। তিনি বলেন, যেসব শিশু বর্তমানে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের এই সময়ে টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরই তাদের টিকাদান সম্পন্ন করতে হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহা (Eid-ul-Adha)-এর আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা।

প্রাথমিকভাবে যেসব উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো এই টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে হামের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।