মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব: জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাজাখস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজাখস্তান থেকে ৫ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ছুটির দিনে বিকেলে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমিরর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান।

বৈঠকে মোট তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যেখানে ১৬ লাখ টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন পেট্রোল আমদানির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মধ্যে কাজাখস্তানের প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি (Kazakh Gas Processing Plant LLP)-এর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫ লাখ টন হাই স্পিড ডিজেল (এইচএসডি) বা অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল (এজিও) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

একই বৈঠকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড (Aramco Trading Singapore Pte Ltd)-এর কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে সব প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বহাল থাকেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউজ এফজেডসিও (DBS Trading House FZCO)-এর কাছ থেকে ১০ লাখ টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল এবং ১ লাখ টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (পেট্রোল) আমদানির প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিলেও, পরে ক্রয় কমিটি থেকে তা প্রত্যাহার করে নেয় জ্বালানি বিভাগ।

একইভাবে ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি (Maxwell International SPC)-এর কাছ থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রস্তাবটিও ক্রয় কমিটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—যেখানে অনুমোদন, সংশোধন এবং প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে একটি সতর্ক ও পরিস্থিতিনির্ভর নীতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।