অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সংস্কার ধরে রাখতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-কে রাজপথে নেমে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের নিরাশ করেছে।” তবে সে সময়কার অর্জিত সংস্কারগুলো টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সাবেক উপদেষ্টাদের সোচ্চার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস, আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)-সহ যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এখন যেভাবে অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা নীরব থাকতে পারেন না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন যদি সংস্কারগুলো বাতিল হয়ে যায়, তারা দায় এড়াতে পারেন না—জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।”
রাজপথে আন্দোলনের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের ভেতরে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। “আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হোক এবং অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক,”—বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা রয়েছে, আর জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না।
ওমরাহ পালনের আগে থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির পূর্বাভাস পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট থেকেই এই ধারার সূচনা হয়েছে। আমরা সংস্কার চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি তখন নির্বাচন চেয়েছিল।”
বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর জনগণের মতামত উপেক্ষা করছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যাদেশ সংসদে আনা হচ্ছে না। এর মধ্যে গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে সরকার নির্বাহী বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে, যা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির অনেক নেতাই অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ এখন সেই গুম প্রতিরোধের আইনই তারা বাতিল করতে চাইছে।
সবশেষে তিনি বলেন, “এই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না হলে বিএনপি কখনোই কলঙ্কমুক্ত হবে না।” একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছরে নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল বিএনপি, আর এখন ক্ষমতায় এসে তাদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পাচ্ছে।
