ঢাকাই সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খান (Shakib Khan)-এর ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স’ দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এমনকি তাঁর ভক্তদের মধ্যেও সিনেমাটি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা দেখা গেছে। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটি থেকে প্রযোজক আয় করেছেন মাত্র তিন কোটি টাকা, যার পুরোটা আবার খরচ হয়েছে প্রচারণায়—এমন তথ্য ঘুরছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সিনেমাটির গল্পকার ও নির্মাতা মেসবাহ উদ্দিন সুমন (Mesbah Uddin Suman) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে ‘প্রিন্স’ সিনেমার ব্যর্থতার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, প্রথমবার গল্প শোনানোর সময় শাকিব খান নিজেই ক্লাইম্যাক্স শুনে উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। পুরো গল্প শোনার পর দীর্ঘ সময় নীরব থেকেছিলেন এবং কয়েকদিন পর চরিত্রের অভিনয়ও নিজে দেখিয়ে দেন। সুমনের ভাষায়, “একবার শুনেই সব মনে রেখে অভিনয়ের পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন তিনি।”
গল্পের উৎস প্রসঙ্গে সুমন লেখেন, ৯০-এর দশকের গ্যাংস্টারদের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৮ সালে এই গল্পটি তৈরি করা হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শোনা কাহিনির মিশেলে তৈরি সেই চিত্রনাট্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজও হয়েছে।
তবে সিনেমাটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি—এমনটাই দাবি করেন তিনি। ‘প্রিন্স’-এর পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ (Abu Hayat Mahmud)-এর বিষয়ে সুমন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই তিনি বিভ্রান্ত ছিলেন। একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে গল্প শুনিয়ে মতামত নেওয়া, অদ্ভুত কিছু দৃশ্যের প্রস্তাব—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি ধীরে ধীরে মূল দিক থেকে সরে যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে পরিচালক এমন দৃশ্যের প্রস্তাব দেন যেখানে নায়ক পিয়ানো বাজালে সেখান থেকে গু’\লি বের হবে, কিংবা একজন আফগানি চরিত্রের সঙ্গে সবসময় একটি মুরগি থাকবে। এসব ধারণা নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও পরিচালক নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
চিত্রনাট্যকার নাজিমউদ্দৌলাও এ নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান সুমন। তাঁর ভাষায়, “এই ছেলেতো ভীষণ কনফিউজড”—এমন মন্তব্যও উঠে আসে।
এদিকে, সিনেমাটির ব্যর্থতা নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন শাকিব খান। এক বিশেষ প্রদর্শনীতে তিনি বলেন, “গল্প শোনার সময় মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হবে। কিন্তু সময়ের অভাবে আমরা তা ঠিকভাবে করতে পারিনি।”
তিনি আরও জানান, নির্মাণকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। ভারতে শুটিংয়ের অনুমতি পেতে বিলম্ব, সেট ভেঙে অন্যত্র সরানো, এবং শেষ পর্যন্ত ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং চালিয়ে যেতে হওয়ায় অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। “এই সিনেমার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি—এটা আমার জীবনে প্রথম,” বলেন তিনি।
চলচ্চিত্রে তাসনিয়া ফারিণ (Tasnia Farin)-এর সঙ্গে আইটেম গানের শুটিংও শেষ মুহূর্তে করতে হয়েছে বলে জানান শাকিব। পাশাপাশি একাধিক গানের দৃশ্য স্বল্প সময়ে শেষ করার কথাও তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে, ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি শুরুতে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, বাস্তবতায় তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—এমনটাই স্বীকার করছেন সংশ্লিষ্টরা। গল্প, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই শেষ পর্যন্ত এই বড় বাজেটের সিনেমাকে ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


