ঢাকা, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই—এমন দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman)। তিনি বলেন, বিদ্যমান যেসব চুক্তি রয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং নতুন করে গোপন কোনো সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই; যা কিছু চুক্তি আছে, তা আগেই প্রকাশ করা হয়েছে।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir) উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন (Brent T. Christensen) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
‘তেল আমদানিতে অনুমতির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় একটি বহুল আলোচিত অভিযোগেরও জবাব দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে তেল আমদানির আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হয়—এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি সেই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত, কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কারণে নয়।
জ্বালানি আমদানিতে খোলা রয়েছে সব পথ
জ্বালানি ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো বাধ্যতামূলক শর্তে আবদ্ধ নয়। সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল সংগ্রহের নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি জানান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র—সবগুলোই সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উপহারে ইতিহাসের ঝলক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তাকে দুটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। একটি ছবিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে দেখা যায়। অন্য ছবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের উপস্থিতি রয়েছে।
