ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত থামাতে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’: প্রস্তাবে কী রয়েছে?

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাকিস্তান (Pakistan) একটি প্রস্তাব তৈরি করে তা ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে, যা কার্যকর হলে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতেই এই প্রস্তাব দুই দেশের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রস্তাবটিতে একটি সুস্পষ্ট দুই ধাপের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান, আর দ্বিতীয় ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রূপরেখা।

সূত্রের বরাতে জানা যায়, এই প্রস্তাবটিকে আপাতত ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, যা পরিস্থিতিকে দ্রুত স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি সোমবারের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত রূপ পায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বহুদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি দ্রুতই পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়বস্তুতেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক উঠে এসেছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইসঙ্গে জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিনিময়ে ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকারও এই চুক্তির অংশ হতে পারে।

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান। একইভাবে প্রস্তাবটির বিষয়ে পাকিস্তানও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ফলে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন এই উদ্যোগ ঘিরে অনিশ্চয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি সম্ভাবনার আলোও দেখা যাচ্ছে।