অভিযান শুরুর আগেই ফাঁকা ফুটপাত, শেষ হতেই ফের বসার প্রস্তুতি—মতিঝিলে ভিন্ন চিত্র

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পাঁচ দিনব্যাপী অভিযানের শেষ দিনে মতিঝিল এলাকায় দেখা গেল এক ভিন্ন বাস্তবতা। অভিযান শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা ফুটপাত ফাঁকা করে রাখলেও, শেষ হলেই আবার পসরা সাজানোর প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় অনেককে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে দৈনিক বাংলা হয়ে ফকিরাপুল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police)-এর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুর রহমান (Muhidur Rahman)-এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

সকাল থেকেই ফুটপাতের অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি। অনেকেই আগের দুই-তিন দিন ধরেই ব্যবসা বন্ধ রেখেছিলেন। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন—অনেকে দূরে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, যেন অভিযান শেষ হলেই আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা শুরু করা যায়।

অভিযান চলাকালে ফুটপাতে ব্যবসায়ী না পেলেও তাদের ফেলে যাওয়া চৌকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে অনেকেই নিজেরাই মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখেন।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের বিপরীতে পূবালী ফিলিং স্টেশনের পাশে অপেক্ষমাণ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকেই বসে আছি। অভিযান শেষ হলেই আবার দোকান খুলব। আগে থেকেই জানতাম, তাই মালামাল সরিয়ে রেখেছি।”

অভিযানের অংশ হিসেবে সড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তবে পূবালী ফিলিং স্টেশনের সামনে জ্বালানি নিতে আসা গাড়ির দীর্ঘ সারিকে মানবিক দিক বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুর রহমান জানান, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল থেকে রাজধানীজুড়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এই পাঁচ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম ঘোষণা দিয়ে অভিযান চালালে অনেক সময় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতে অঘোষিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।