ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে থাকায় ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়তি চাপ এবং মজুত কমে আসার বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্তকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেল আবিব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল (Israel) যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরান (Iran)-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের জবাবে প্রায় প্রতিদিনই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। এর ফলে প্রতিনিয়ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় রাখতে হচ্ছে ইসরায়েলকে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে।
এই হামলাগুলো প্রতিহত করতে ইসরায়েল প্রধানত ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ ব্যবহার করে। তবে টানা পাল্টা হামলার মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে এই ধরনের মজুত ঘাটতি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই বাস্তবতায় দেশটির মন্ত্রিসভার অস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি জরুরি ভিত্তিতে অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) ও জেরুসালেম পোস্ট (Jerusalem Post) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যা পরিস্থিতির গভীরতাকেই ইঙ্গিত করে।
ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (Israel Aerospace Industries) অ্যারো-২ এবং অ্যারো-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, অ্যারো-২ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৫ লাখ ডলার, আর অ্যারো-৩-এর ক্ষেত্রে তা প্রায় ২০ লাখ ডলার—যা প্রতিটি প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে অর্থনৈতিকভাবেও ব্যয়বহুল করে তুলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ঠেকাতে মূলত এই অ্যারো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ব্যবহৃত হয়। যদিও ইসরায়েলের কাছে আয়রন ডোম ও ডেভিড’স স্লিং নামে আরও দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এগুলোর কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মনে করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হয়েছিল ইসরায়েল। সেই সময় এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে অ্যারো মিসাইলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, যুদ্ধ এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু বর্তমান সংঘাত ইতোমধ্যে পাঁচ সপ্তাহ পার করেছে, এবং ইরানের হামলা কমার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ হারে অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।


