দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) আগামী ৯ এপ্রিল একই ফ্লাইটে মরিশাসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বিবিসি বাংলা (BBC Bangla)-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এয়ার মরিশাসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাত থেকে আট ঘণ্টার দীর্ঘ পথ একসঙ্গেই অতিক্রম করবেন। কূটনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ভ্রমণ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতার বাইরে এই দীর্ঘ সময় একত্রে কাটানো দুই দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হতে পারে। আকাশপথে এই একান্ত সময়েই দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হবে—এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল দিল্লিতে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ৯ এপ্রিল সেখান থেকেই সরাসরি মরিশাসের উদ্দেশে রওনা দেবেন ড. খলিলুর রহমান। সেখানে অনুষ্ঠিতব্য নবম ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। একই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এস জয়শঙ্করও।
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির আয়োজন করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন (India Foundation)। সংস্থাটির সভাপতি বিজেপি-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব (Ram Madhav)। ফলে দিল্লির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ধারাবাহিকতায় মরিশাসেও দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই সফর এবং একই ফ্লাইটে যাত্রা কেবল প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতিরও ইঙ্গিত বহন করছে। সীমান্ত হ’\ত্যা, তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং ভিসা জটিলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘আকাশপথের কূটনীতি’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে—যেখানে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়েও বাস্তব সমাধানের পথ খোঁজা হবে।


