সীমিত পরিসরে ফের শুরু যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসাইলাম আবেদন: কঠোর যাচাইয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন প্রক্রিয়া ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দেশটি সীমিত আকারে কিছু আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সোমবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে আসে, যা অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আশা ও সংশয়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

এর আগে, গত নভেম্বরে এক আফগান অভিবাসীর গু’\লি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গু’\লি’\বি’\দ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে একজন পরে মা’\রা যান। এই ঘটনার পরই নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র (United States) প্রশাসন প্রায় সব অ্যাসাইলাম আবেদন কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই প্রভাব ফেলেনি, বরং অভিবাসন নীতির কঠোরতাও বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (US Citizenship and Immigration Services) জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র “কম ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচিত কিছু দেশের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সীমিত আকারে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি আবেদনকারীকে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

কোন কোন দেশ এই “কম ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব দেশ বর্তমানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ (Bangladesh)সহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই স্থগিত রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ মূলত তাঁদের জন্য, যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে—পারিবারিক পুনর্মিলন বা চাকরিভিত্তিক সুযোগে—আবেদন করে থাকেন। তবে এই প্রক্রিয়া অ্যাসাইলাম ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, কারণ আশ্রয় একটি পৃথক আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো দেশ যদি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়ে, তাহলে সেই দেশের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ওই হামলার ঘটনার পর প্রশাসন আগের যাচাই-বাছাই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে এবং আরও কঠোর অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করে। এর ফলে অ্যাসাইলাম আবেদন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আরও কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, যা বৈশ্বিক অভিবাসন পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে, সেসব দেশের আবেদনকারীরা আবার আবেদন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাও আগের তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আরও বিস্তৃত যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকাকালে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হয়েছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।