পাকিস্তানের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যাচ্ছেন ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের উদ্দেশ্য অর্জনের পর ইরান দুই সপ্তাহের জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে সংলাপে অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নির্ভর করবে ইরানের দেওয়া শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মার্চে তিনি ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠান। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করলে পরে সংশোধিত একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, যেখানে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল।
প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ইরান মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দেয়, যা ট্রাম্পও মেনে নেন। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ১০টি শর্ত সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছু সময় পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তিনি ১০ এপ্রিলকে সংলাপ শুরুর দিন হিসেবে প্রস্তাব করেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনের সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনেক দূরের পথ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


