শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিতকরণ বিল। এর ফলে এতদিন যে আইনি কাঠামোর আওতায় পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিশ্চিত ছিল, তা আর বহাল থাকছে না।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনের ১১তম দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) (বীর বিক্রম)।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের ২৫ মে ওই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতেই আইনটি করা হয়েছিল, যা একটি স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করার প্রয়োজন থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার (Interim Government) আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশই এবার স্থায়ী আইনি ভিত্তি পেয়ে সংসদে বিল হিসেবে পাস হলো।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের আমলে প্রণীত এই আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)-এর জীবিত দুই কন্যা এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় বাসভবন এবং আরও নানা সুযোগ-সুবিধার বিধান রাখা হয়েছিল। বুধবার বিলটি পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থাও বিলুপ্ত হলো।
