ইস্টার সানডে উপলক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে ৩২ ঘণ্টার জন্য সাময়িক বিরতি ঘোষণা করেছে ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর নেতৃত্বাধীন রাশিয়া। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন (Kremlin)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সব ফ্রন্টলাইনে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব ইস্টারকে সামনে রেখে নেওয়া এই পদক্ষেপে একদিকে শান্তির বার্তা থাকলেও, অন্যদিকে সেনাদের সম্ভাব্য উসকানি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশও স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে ইউক্রেন (Ukraine)-কে একই ধরনের পদক্ষেপ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কিয়েভ এখনো সরাসরি পূর্ণ সম্মতি দেয়নি। তবুও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy) জানিয়েছেন, সমান পদক্ষেপে সাড়া দিতে তারা প্রস্তুত।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা এই ঘোষণাকে ঘিরে সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত করেছে। এর আগে একাধিকবার স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ফলে নতুন এই বিরতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধে প্রায় ৮০০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত ফ্রন্টলাইনে এখনো লড়াই অব্যাহত রয়েছে। মানবিক দিক থেকে সাময়িক স্বস্তির সুযোগ তৈরি হলেও সামরিক বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত এবং অস্থিতিশীল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সাময়িক বিরাম, যা স্থায়ী সমাধানের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। তবুও সংঘাতক্লান্ত মানুষের জন্য এই স্বল্প সময়ের শান্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


