পশ্চিমবঙ্গ ভোটের আগে হাসিনা ইস্যুতে তোপ, মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন অভিষেক

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আবহে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিতর্কের পারদ ক্রমেই চড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আবারও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে তুলেছেন একাধিক প্রশ্ন। শুক্রবার তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র ভারতে অবস্থান নিয়ে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান।

অভিষেকের প্রশ্ন ছিল সরাসরি—দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কেন শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে? এর পেছনে কি কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে? তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং এর গভীরে অর্থনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি ইঙ্গিত দেন, ভারতের কোনো নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী—বিশেষ করে আদানি বা আম্বানির মতো বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্যই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? তার দাবি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের এই ভূমিকা কিংবা শেখ হাসিনাকে একটি কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে কর্পোরেট স্বার্থ লুকিয়ে থাকতে পারে।

এই মন্তব্যের পটভূমিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। ভারত সরকার শুরুতে মানবিক কারণ দেখিয়ে তাকে সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দিলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই সুযোগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিরও সমালোচনা করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের করের টাকায় বিদেশি নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়ার চেয়ে দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও জনজীবনের সমস্যাগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি (BJP) সরকার জনস্বার্থের চেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে ভারতের যে বিনিয়োগ রয়েছে, তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিষেকের এই বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়; বরং এটি ভারতের বৈদেশিক নীতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কর্পোরেট প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে একটি বিস্তৃত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নির্বাচনের আগে আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।