মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও গণমানুষের চিকিৎসাসেবার পথিকৃৎ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (Dr. Zafrullah Chowdhury)-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি (Bhasani Janashakti Party) ও গণঅধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad)।
শনিবার ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু (Sheikh Rafiqul Islam Bablur) নেতৃত্বে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ডা. আবু ইউসুফ সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, নারী নেত্রী সাহানা বেগমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই মরহুমের কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস, গণবিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ঔষুধনীতির অন্যতম প্রণয়নকারী, যার অবদান দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। রাজনীতির অঙ্গনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়—ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং তার উদ্যোগেই গঠিত হয় গণতন্ত্র মঞ্চ। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি এই প্ল্যাটফর্মকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামিয়েছিলেন।
গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগেও এদিন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ব্যক্তি জীবনে দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার জন্য তিনি অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় ঔষুধ নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতিটি লড়াইয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সরব। কিন্তু তার অবদান আজ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা বর্তমান সরকারের আমলেও তার স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজন না থাকাকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও একসময় তুলেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও তার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় আয়োজন না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনটি পালনের দাবি জানান।
দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন নির্ভীক দেশপ্রেমিক ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তার আদর্শ ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন হাবিবুর রিজু। এতে আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন নুর ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন এবং শ্রমিক অধিকার পরিষদের আব্দুর রহমান। তারা সবাই তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
