ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। এর আগেও বছরের পর বছর ধরে চলেছে নানা দফার আলোচনা—যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি। তবে এবারের আলোচনার পরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত, যেখানে শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)-এর মতো কৌশলগত ইস্যুও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
ইসলামাবাদ (Islamabad)-এ অনুষ্ঠিত দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষ হলেও প্রশ্ন এখন একটাই—কূটনীতির পথ কি এখানেই শেষ? আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না আসায় এই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) নিশ্চিত করেছেন যে ইসলামাবাদের আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। তবে তার বক্তব্যে এমন একটি ইঙ্গিতও রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে খোলা রয়েছে। ইরান চাইলে সেটি বিবেচনা করে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর এখন পুরোপুরি ট্রাম্পের দিকেই। কিন্তু তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এক কঠোর বার্তা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’ এমন বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিণতি কী হতে পারে—সেই প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে। কারণ, ইতিহাস বলছে, আলোচনা ভেঙে গেলে অনেক সময় তা সরাসরি সংঘাতের পথ খুলে দেয়। যদিও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হতে আরও প্রায় ১০ দিন বাকি।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইল (Israel) ছাড়া পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই চাইছে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকুক। তবে পরিস্থিতির গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ করে ট্রাম্পের পরবর্তী অবস্থানের ওপর।


