ভারতীয় সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)-এর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা (Runa Laila)। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল (Breach Candy Hospital)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার, ১২ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে রুনা লায়লা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, দুই কিংবদন্তি—আশা ভোঁসলে এবং লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)—পরপর চলে যাওয়ায় সংগীতজগৎ এক গভীর শূন্যতায় ডুবে গেছে। তাঁর ভাষায়, “এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেলো।”
রুনা লায়লা আরও জানান, আশা ভোঁসলে ও লতা মঙ্গেশকর দুজনেই তাঁকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। তাঁদের স্নেহকে তিনি মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই বিচ্ছেদকে তিনি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শেষবার আশা ভোঁসলের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল নিজের সুর করা একটি গান—‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’—রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর বিভিন্ন সময়ে অডিও ও ভিডিও কলে তাঁদের কথা হয়েছে।
রুনা লায়লা বলেন, অনেকদিন ধরেই তাঁর ইচ্ছে ছিল আবার ফোন করে আশা ভোঁসলের খোঁজ নেওয়ার। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। শেষ কথাটাও আর বলা হয়নি—এই আফসোসই এখন তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “আমরা প্রায়ই বলি আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখবে না। আমি যদি তখনই ফোন করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোস থাকত না।”
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীতজগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা অপূরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন রুনা লায়লা। তাঁর মতে, এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, এবং এই ক্ষতি দীর্ঘদিন ধরে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলবে।


