ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও সংযত ও যৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। একইসঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকট নিরসনে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক পথে ফেরার তাগিদও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীন সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ল্যাভরভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি—জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা—আইএইএ কখনও দাবি করেনি যে ইরান সামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। আমি আশা করি, এই বাস্তবতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌক্তিক অবস্থানে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করবে। কারণ এই সংঘাতে শুধু ইরানই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানাচ্ছি—তারা যেন কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য দূর করে। ওয়াশিংটন যদি সত্যিই কূটনীতির পথ বেছে নেয়, তাহলে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
এদিকে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গেছে, দেশটির কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা প্রায় ৬০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশুদ্ধতা যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে তা দিয়ে পরমাণু বোমা তৈরি সম্ভব। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামের ন্যূনতম ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধতা প্রয়োজন হয়।
গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে—পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের প্রেক্ষাপটেই গত ২৮ এপ্রিল থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা


