আবার ফিরছে ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি, থাকছে ছুটি

চলতি বছর থেকে আবারও ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি (Md. Nasimul Ghani)।

তিনি জানান, দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় প্রতি বছরের ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হবে। তার ভাষায়, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি আগে থেকেই ছিল, এবার সেটিকে পুনরায় চালু করা হয়েছে।”

একই বৈঠকে ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, তবে এ দিন কোনো সরকারি ছুটি থাকছে না বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে এক নতুন মোড় এনে দেয়। এর আগে ১৫ আগস্টের পর ধারাবাহিক সেনা অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে দেশ যখন চরম অস্থিরতায় নিমজ্জিত ছিল, তখনই এই ঘটনাকে অনেকেই এক ধরনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখেন।

সেই সময়ের অস্থির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তীতে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

বিএনপি সরকারের আমলে এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হলেও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই ছুটি বাতিল করা হয়। শুধু তাই নয়, ওই সময় দিবসটি উদযাপনেও নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট দল ও সমর্থকদের।

দীর্ঘ সময় পর আবারও দিবসটি সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটিসহ ফিরে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়কে পুনরায় সামনে নিয়ে আসবে।