ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ভেস্তে গেলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তেহরানকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর পথেও হাঁটতে প্রস্তুত।
হেগসেথ বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা আবারও ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম।” তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি দ্রুতই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এটি নিশ্চিত করা হবে—“শান্তিপূর্ণভাবে, অথবা প্রয়োজনে কঠোরভাবে”—এমন ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
নৌ অবরোধ প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তার নৌবাহিনীর মোট সক্ষমতার ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করে ইরানের ওপর এই অবরোধ কার্যকর করছে। ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকিকে তিনি সরাসরি ‘নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দেন।
হেগসেথ বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো ঠেকাতে এই অবরোধ “যতদিন প্রয়োজন, ততদিন” চলবে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত আপাতত নেই।
এদিকে মার্কিন জেনারেল জেমস কেইন (James Caine) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবারও যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নৌ অবরোধের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে পথ পরিবর্তন করেছে এবং এখনো কোনো জাহাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়নি।
অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়েহ সেতুতে পরপর দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন (Joseph Aoun)-এর সঙ্গে ফোনালাপ করতে পারেন বলে জানিয়েছে একটি ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়। যদিও এর আগে এই সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল লেবানন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে, সামরিক ও কূটনৈতিক দুই ফ্রন্টেই চাপ বাড়ছে—আর বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা।


