হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। ইরান (Iran)-এর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরাইল (Israel)। এই যুদ্ধাবস্থার প্রভাব গিয়ে পড়েছে খেলাধুলার অঙ্গনেও। বিশেষ করে ইরানের ফুটবল দলের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ‘শত্রু’ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে দল না পাঠানোর কথা বলে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিও তোলে ইরান।
তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) শুরু থেকেই এ বিষয়ে আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছেন। সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনেও তিনি একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পষ্ট ভাষায় ইনফান্তিনো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যু/দ্ধাবস্থা থাকলেও ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তার কথায়, “ইরান অবশ্যই আসবে (বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে)। আশা করছি তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে—এটি সবার জন্যই ভালো হবে।”
ইরানের অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ—সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। ইনফান্তিনো বলেন, “ইরান তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা ইতোমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করেছে। খেলোয়াড়রাও খেলতে চায়। খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। যদি কেউ সেতুবন্ধন তৈরি ও তা ধরে রাখতে না পারে, তবে সেই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।”
এর আগেও গত মার্চে তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরান ও কোস্টারিকার একটি প্রীতি ম্যাচ দেখতে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তখন ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “না, ড্র অনুযায়ী যেখানে খেলার কথা, সেখানেই ম্যাচ হবে।”
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবার এই বৈশ্বিক ফুটবল আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে। সূচি অনুযায়ী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা ইরানের। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।


