জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of External Affairs, India)। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানান, বিষয়টি ভারতের প্রচলিত আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আওতায় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আমাদের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এই অনুরোধ পাওয়ার কথা ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছিল। এরপর থেকে বিষয়টি ধাপে ধাপে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যাতে আইনি দিকগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা যায়।
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এই বাস্তবতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করলেও ভারত তাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি কেবল আইনি নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই বিষয়ে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


