মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে ইসরাইলি রাজনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এবং তার জোট সরকারের জন্য এই সিদ্ধান্ত অনেকটা ‘চপেটাঘাত’-এর মতোই প্রতীয়মান হয়েছে।
যেখানে ইসরাইলি সরকার লেবাননের অভ্যন্তরে লিটানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করছিল, সেখানে ট্রাম্পের এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সেই পরিকল্পনার গতিপথকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলকে বিমান হামলা বন্ধের জন্য ট্রাম্পের সরাসরি এবং কঠোর বার্তা নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
গত কয়েকদিন ধরেই ইসরাইলি সরকার আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ছিল। তারা শুধু লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহ (Hezbollah)-কে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানাচ্ছিল না, বরং সংগঠনটিকে সংসদ ও সরকার থেকে পুরোপুরি বহিষ্কারের দাবিও তুলছিল। এমন এক সময়ে, যখন দেশের ভেতরে সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছিল, তখন ডানপন্থী ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছিল তেলআভিভ। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ সেই পরিকল্পনাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কিছু গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে বাধা দিচ্ছে—যেন তাদের নিজস্ব জনমতের কাছে কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান প্রদর্শন করা যায়। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তারা দেখাতে চাইছে যে নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা আপসহীন।
তবে পুরো পরিস্থিতি ইসরাইলের জন্য সম্পূর্ণ নেতিবাচকও নয়। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও একটি সীমিত সুযোগ—যাকে অনেকেই ‘উইগল রুম’ বলছেন—রয়ে গেছে। কারণ এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ইসরাইলকে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো নির্দেশ দেয়নি।
এই দিকটিকেই ইসরাইল সরকার এখন তাদের অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখে এক ধরনের সান্ত্বনা হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা জনসাধারণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, বিমান হামলা বন্ধের চাপ থাকলেও কৌশলগত অবস্থান থেকে তারা এখনও সরে আসেনি। বাস্তবে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার প্রয়োজনে এই সীমিত সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।


